ভারতের বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে গুজরাট। তবে গত পাঁচ বছরে রাজস্থান, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। খবর দ্য হিন্দু।
ভারতের ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ সবচেয়ে বেড়েছে রাজস্থানে। রাজ্যটিতে বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে ১২৫ শতাংশ।
সম্প্রতি দেশটির রাজ্যসভায় শীতকালীন অধিবেশনে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ২৮ হাজার ২২৫ এমইউ (মিলিয়ন ইউনিট)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা বেড়ে ৬৩ হাজার ৫০০ এমইউতে পৌঁছেছে। একইভাবে পাঁচ বছরে ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ওড়িশায় ৬৩, আর ছত্তিশগড়ে বৃদ্ধি প্রায় ৬০ শতাংশ।
হরিয়ানা (৫০ শতাংশ), তামিলনাড়ু (৪৪ শতাংশ) এবং উত্তরপ্রদেশের (৪০ শতাংশ) মতো অন্যান্য রাজ্যেও বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এ পাঁচ বছরে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ গড়ে ২৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩৫ হাজার এমইউ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, যা বর্তমানে বেড়ে ৬ লাখ ৯০ হাজার এমইউতে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব দ্রুত বাড়ছে এবং তা রাজ্য ও কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেও ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৮-০৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতায় রাজ্যের হিস্যা ৫৪ থেকে ২৪ শতাংশে এবং কেন্দ্রীয় খাতের শেয়ার ৩১ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের হিস্যা ১৫ থেকে ৫২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার মধ্যে বেসরকারি খাতের হিস্যা ৫৩ শতাংশের বেশি, যা প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৪ মেগাওয়াট।
দাস্তুর এনার্জির সিইও ও প্রেসিডেন্ট অতনু মুখার্জি বলেছেন, ‘২০১৯-২৪ সালের মধ্যে রাজস্থান, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির পেছনে নীতিগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যক্ষমতার উন্নতি ভূমিকা রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে ওড়িশায় সৌর ও বায়ুশক্তির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য উৎসগুলো বর্তমানে রাজ্যের ৪৫ শতাংশের বেশি শক্তি মিশ্রণে ব্যবহার হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় ওড়িশার হাতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রয়েছে, যা প্রতিবেশী রাজ্যগুলোয় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।’
অতনু মুখার্জি আরো জানান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতি কমানোর ওপর জোর দিয়েছে ছত্তিশগড়। চুরি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিলের অকার্যকারীর মতো সমস্যার সমাধান করে রাজ্যটি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে।